নিউজবুক টিকার
দেশে প্রথম করোনা ‘ভ্যাকসিন’ আবিষ্কারের দাবি                    নতুন দল নিবন্ধন আইনের প্রক্রিয়া স্থগিত চায় বিএনপি                    স্বস্তি ফিরলেও আতঙ্ক কাটেনি রাজাবাজারে                    ভাঙ্গা-পায়রা বন্দর রেলপথ নির্মাণ: সমীক্ষার ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ছে                    সৌদি আরব থেকে ফিরলো ৪১৬ বাংলাদেশি                    
02 Apr 2014   03:22:19 PM   Wednesday   BdST

দরিদ্রবান্ধব ও জনকল্যাণমূলক কর ব্যবস্থার দাবি ‘সুপ্র’র

নিজস্ব প্রতিবেদক 
ঢাকা, ২ এপ্রিল :

   সুপ্র আয়োজিত কর ন্যায্যতা বিষয়ক প্রাক-সমীক্ষা জরিপের প্রতিবেদন প্রকাশ ও মতবিনিময় সভায় বক্তারা
সাম্য ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে রুপায়িত দরিদ্রবান্ধব ও জনকল্যাণমূলক কর ব্যবস্থার দাবি:


“কর, বাংলাদেশের কর ব্যবস্থা এবং কর পার্থক্য বিশ্লেষণ ” শীর্ষক প্রাকসমীক্ষা জরিপের প্রতিবেদন প্রকাশ ও মতবিনিময় সভা উপলক্ষ্যে গত ৩১ মার্চ ২০১৪, বিকাল ৩.০০ টায় আজিমুর রহমান কনফারেন্স হল (লেভেল -৩), দি ডেইলি স্টার ভবন, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, ঢাকায় একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করে সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান-সুপ্র। উক্ত মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুপ্র সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফুর রহমান। সুপ্র চেয়ারপার্সন মুস্তাফিজুর রহমান খানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালিপদ হালদার, সদস্য (লীগাল এন্ড এনফর্সমেন্ট), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ। এছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফারাহ কবির, কান্ট্রি ডিরেক্টর, এ্যাকসনএইড বাংলাদেশ ও কনর মলয়, এসিডি- ইনচার্জ, অক্সফাম নভিব। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুপ্র’র নির্বাহী ও জাতীয় পরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন জেলা থেকে আগত জেলা সম্পাদক, সুপ্র সচিবালয়ের কর্মকর্তা, ঢাকা ক্যাম্পেইন গ্র“প ও বাজেট এলায়েন্স গ্র“পের নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকগণ। সভায় প্রাক-সমীক্ষা প্রতিদেনের মোড়ক উম্মোচন করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (লীগাল এন্ড এনফর্সমেন্ট) কালিপদ হালদার ও কনর মলয়, অক্সফাম নভিব।

সুপ্র গত এক বছর ধরে কর , কর ন্যায্যতা ও বাংলাদেশের কর ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করে আসছে। যার মূল উদ্দেশ্য হলো দরিদ্রবান্ধব করনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা সহ সকলের কর সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা। সম্প্রতি সুপ্র-“কর, বাংলাদেশের কর ব্যবস্থা এবং কর পার্থক্য বিশ্লেষণ” শীর্ষক একটি প্রাকসমীক্ষা জরীপ পরিচালনা করেছে। সভায় প্রাক-সমীক্ষা জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন গবেষক রুবাইয়াৎ হাশমী। জরিপে বলা হয় বাংলাদেশ কর-জিডিপি’র হারে ধীরে ধীরে উন্নতি করলেও অন্যান্য দেশের (২০%) তুলনায় তা খুবই হতাশাজনক (৯.৯৮%, ২০১১) । বাংলাদেশে রাজস্ব আয় মূলত: পরোক্ষ কর নির্ভর (অর্থবছর ২০১১-১২, প্রত্যক্ষ কর ২৫.৫% এবং ৫৭.৫৭%)।

সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের কর ব্যবস্থা এখনও দরিদ্র ও জনবান্ধব হয়ে উঠেনি। তাই এ ব্যবস্থাকে কিভাবে গণমূখি ও জনবান্ধব করা যায় সে বিষয়ে সবাইকে নজর দিতে হবে এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। পরোক্ষ করের বোঝা কমিয়ে প্রত্যক্ষ করের আওতা বাড়াতে হবে। কৃষিপণ্যের উৎপাদনে কর রেয়াত চালু করতে হবে । পাশাপাশি বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানীগুলোকে কর রেয়াতের বাইরে রাখতে হবে।

আলোচনা শেষে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সুপারিশসমূহ উঠে আসে। নিচে সেগুলো দেয়া হলো-

সুপারিশসমূহ:
 ১।    জনঅংশগ্রহনের মাধ্যমে দেশের প্রচলিত কর আইনের সংশোধন করতে হবে।
 ২।    কর প্রদানে করদাতাকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
 ৩।   পরোক্ষ কর তথা ভ্যাট নয় বরং প্রত্যক্ষ কর পদ্ধতি চালু করতে হবে।
 ৪।   কর ব্যবস্থাকে আরো সহজিকরণ ও বিকেন্দ্রিকরণ করতে হবে।
 ৫।   মূল্য সংযোজন করের মাধ্যমে নিত্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি করার প্রবনতা দুর করতে হবে এবং বিলাসজাত দ্রব্যের উপর অধিক হারে মূসক আরোপ করা যেতে পারে।
৬।   কর প্রদানের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরনের মাধ্যমে কালো টাকা তৈরীর প্রবণতাকে বন্ধ করতে হবে।
 ৭।   কর বিভাগের সাথে একত্রিত হয়ে নাগরিক সমাজ, এনজিও এবং স্থানীয় সরকারকে কাজ করতে হবে।
 ৮।   করের বিপরিতে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
 ৯।   কর প্রশাসনকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সমন্বয়তা নিশ্চিত করতে হবে।
১০।    সরকারের কর বিভাগকে জনগনের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে।
১১।    স্থানীয় সরকার কাঠামোকে স্বাধীন কর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দিতে হবে।
১২।  ইন্টারনেটের মাধ্যমে আয়কর রিটার্ণ পদ্ধতিকে জনসাধারণের মাঝে পরিষ্কার করতে হবে।
১৩।  জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কর বিষয়ক শক্তিশালী মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে।
১৪।  স্থানীয়ভাবে কর আদায় ও আদায়কৃত টাকা থেকে উন্নয়ন পরিকল্পনা করতে হবে এবং বছর শেষে তার তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরতে হবে।
১৫।  বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার কর ও করনীতিমালা বিষয়ে খবরদারিত্ব ও অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

 

 

 

নিউজবুকবিডি/এবি.এম সুজন/২০১৪