নিউজবুক টিকার
দেশে প্রথম করোনা ‘ভ্যাকসিন’ আবিষ্কারের দাবি                    নতুন দল নিবন্ধন আইনের প্রক্রিয়া স্থগিত চায় বিএনপি                    স্বস্তি ফিরলেও আতঙ্ক কাটেনি রাজাবাজারে                    ভাঙ্গা-পায়রা বন্দর রেলপথ নির্মাণ: সমীক্ষার ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ছে                    সৌদি আরব থেকে ফিরলো ৪১৬ বাংলাদেশি                    
29 Jun 2020   05:04:17 PM   Monday   BdST

ঠাকুরগাঁওয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন দিনমজুররা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: করোনার কারণে ঠাকুরগাঁওয়ে দিনমজুররাও কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তাদের নিয়মিত কাজ জুটছে না। এ কারণে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
 
 
ঠাকুরগাঁও শহরের চৌরাস্তা, কালিবাড়ি, বাসস্ট্যান্ড চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন ভোরে যারা শ্রম বিকানোর জন্য মনিবের ডাকের প্রতীক্ষায় থাকেন, কাজ না পেয়ে তাদের প্রায় সবাইকে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। অথচ দিনমজুরদের অধিকাংশেরই ঘাড়ে রয়েছে ক্ষুদ্রঋণের বোঝা।
 
করোনাভাইরাসের কারণে সারাদেশ যখন সাধারণ ছুটির আওতায় ছিল তখন ত্রাণ বিতরণ করা হলেও কাজের সন্ধানে আসা শ্রমিকরা কিছুই পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, আমাদের নামধাম লিখে নিয়ে গেল, ভোটার আইডি কার্ডও নিয়ে গেল অথচ চেয়ারম্যান-মেম্বাররা কিছুই দিল না।
 
ঠাকুরগাঁওয়ে করোনাভাইরাসের কারণে কাজ করানোর কথা ভাবছেই না কেউ। নির্মাণ কাজও শূন্যের কোঠায়। রাজমিস্ত্রি ও মিস্ত্রির জোগালিদের অধিকাংশেরই দিন কাটছে কাজ ছাড়া। আর যারা দিনমজুরি করেই পরিবারের সদস্যদের দুবেলা দুমুঠো ভাতের ব্যবস্থা করেন তাদের দুর্দশার অন্ত নেই।
 
গত দুদিন সকালে ঠাকুরগাঁও চৌরাস্তায় কাজের অপেক্ষায় বসে থাকা বেশকিছু দিনমজুরের সঙ্গে কথা হয়। এদের মধ্যে খোচাবাড়ি এলাকার সিরাজুল, আলী হোসেন, অভিন্ন ভাষায় বলেন বেশ কিছুদিন ধরে কাজ জুটছে না। দিনমজুরি করে পাওয়া টাকায় সংসার চলে। আগে দুই-একদিন কাজ না হলেও পাড়ার দোকানদার চাল-আটা বাকি দিত, এখন তাও দিচ্ছে না।
 
এদের মধ্যে সিরাজুল বললেন, একটি এনজিও থেকে ৬০ হাজার টাকার ঋণ নিয়ে গরু কিনেছিলাম। ঋণের কিস্তি দিতে পারছি না।
 
সাদেকুল ইসলাম বললেন, দেশে দিনমজুরি করে সংসার চলে না, ভিন্ন কিছু করবো বলে ১ লাখ টাকা ঋণ করলাম। যখন শুনছিলাম দেশে এল করোনা। কপাল খারাপ। ঋণের টাকা করনোকালে সংসার চালাতে গিয়ে দেখি শেষ।
 
সরকার যে এত এত ত্রাণ দিল, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার বিতরণ করা হল, এসবের কিছু পাননি? এ সব প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়য়োর এলাকার সাইদুর রহমান, আউলিয়াপুরে হামিদ, শিবগঞ্জের আজিজুল হক ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘কারা কাদের ত্রাণ দিল তা তো চোখেই দেখলাম না। শুনলাম, সরকার গরিব মানুষদের মোবাইল ফোনে বিকাশ করে আড়াই হাজার টাকা দিচ্ছে। আমরা দিনমজুরি করি। দিন আনি দিন খাই। এরপরও কি মেম্বার-চেয়ারম্যানদের চোখে আমরা গরিব হলাম না?’
 
অভিযোগকারীদের মধ্যে কয়েকজন বললেন, ‘ঈদের আগে অনেক কিছু দেবে বলে ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে গেল। নাম লিখে নিয়ে গেল। আশায় বুক বেঁধে বসে ছিলাম। কিছুই পেলাম না। এ সব কষ্টের কথা বলব কার কাছে!’