03 Nov 2017   07:38:05 PM   Friday   BdST

হারিকেন এখন প্রায় শুধুই স্মৃতি

জীবন হক: প্রাচীন বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য কুপি বাতি (টেমি) ও হারিকেন এখন শুধুই স্মৃতি। যেখানে গ্রাম বাংলার প্রতি গৃহের অতি প্রয়োজনীয় কুপি ও হারিকেন আজ বিলীন। গ্রামের অমাবস্যার রাতে মিটি মিটি আলো জ্বালিয়ে মানুষের পথ চলার স্মৃতি এখনও তাড়া করে।

 

চলচ্চিত্রের প্রথম আমলের ছবিগুলোর দিকে এক নজর তাকালেই তার কিছুটা নমুনা পাওয়া সম্ভব। যেখানে সিনেমার নায়িকা তার ভালোবাসার মানুষটিকে অন্ধকার রাতে খুজে পেতে কুপি হারিকেন নিয়ে ছুটে আসে। আবার বাংলা সাহিত্যের অন্যতম ‘‘ডাক হরকরা’’ গল্পের নায়ক তার এক হাতে হারিকেন আর অন্য হাতে বল্লভ নিয়ে রাতের আধারে ছুটে চলে তার কর্ম পালনে।

 

একটা সময় ছিল যখন বাহারি ধরনের কুপি ও হারিকেন ছিল মানুষের অন্ধকার নিবারণের অবলম্বন। কিন্তু কালের বিবর্তনে কুপি বাতি ও হারিকেনের স্থান দখল করে নিয়েছে বৈদ্যুতিক বাল্ব, সৌরবিদ্যুৎ, চার্জার লাইট সহ মোমবাতি আরও অনেক কিছুই। ফলে ক্রমেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় এই নিদর্শটিও। এই কুপি ও হারিকেন গুলো ছিল বাহারি ডিজাইনের। এর মধ্যে মাটি, লোহা, কাচের বোতল আবার পিতলের তৈরী কুপিও ছিল। নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী লোকজন কুপি ও হারিকেন কিনে সেগুলো ব্যবহার করতো। বাজারে সাধারণত ছোট বড় দুই ধরনের কুপি ও হারিকেন পাওয়া যেতো। কুপি হতে বেশি আলো পাওয়ার লক্ষ্যে ছোট কুপি গুলোর জন্য কাঠ, মাটি বা বাশের তৈরী গাছা (স্ট্যান্ড) ব্যবহার করা হতো।

 

এই গাছাগুলো ছিল বিভিন্ন ডিজাইনের। কিন্তু বর্তমানে গ্রাম বাংলার ডিজিটাল বিদ্যুতের ছোয়ায় কুপি ও হারিকেনের কদর হারিয়ে গেছে। রিকশা গুলোর নিচে রাতের আধারে হারিকেনের ব্যাপক ব্যবহার ছিল। বিদ্যুৎ না থাকলেও অবশিষ্ট সময় মানুষ ব্যবহার করেছে বিভিন্ন ধরনের চার্জার লাইট, ও মোমবাতি। গ্রাম বাংলার আপামোর লোকের কাছে কুপি ও হারিকেনের কদর হারিয়ে গেলেও এখনও অনেকে আকড়ে ধরে আছেন কুপির এই স্মৃতি।