08 Feb 2019   01:58:51 PM   Friday   BdST

সৌদি কর্মকর্তাদের হাতে খাশুগজি হত্যার ‘প্রমাণ পেয়েছে’ জাতিসংঘ

 

সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশুগজিকে সৌদি আরবের কর্মকর্তারাই যে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন, তার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘের তদন্ত কমিটি।

 

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইস্তাম্বুলের সৌদি কনসুলেটে ওই হত্যাকাণ্ডের পর তুরস্কের তদন্তের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করার সব ধরনের চেষ্টাই সৌদি আরব করেছে বলে জাতিসংঘের তদন্ত দল জানিয়েছে।  

 

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যাগনেস ক্যালামারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল খাশুগজি হত্যার তদন্তে ২৮ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি তুরস্ক সফর করে।

 

জেনিভায় ফিরে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ক্যালামার বলেন, “তদন্তের সময় যেসব তথ্যপ্রমাণ আমরা পেয়েছি, তাতে এটা স্পষ্ট যে, জামাল খাসোগজি একটি নিষ্ঠুর এবং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার। সৌদি কর্মকর্তারাই ওই ছক সাজিয়ে তার বাস্তবায়ন করেছেন।”

 

ওয়াশিংটন পোস্টের কলামনিস্ট খাশুগজি সৌদি সরকার ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচক ছিলেন। স্বেচ্ছা নির্বাসনে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এই সাংবাদিক গতবছর ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের কনসুলেটে গিয়েছিলেন বিয়ের জন্য কাগজপত্র সংগ্রহ করতে। সেখানেই তিনি বর্বর হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

 

কনসুলেটের ভেতর খাশুগজির পরিণতি নিয়ে প্রথম থেকেই লুকোচুরির আশ্রয় নেয় রিয়াদ। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে, কনসুলেটের ভেতরে খাশুগজিকে খুন করে তার মৃতদেহ টুকরো টুকরো করে সরিয়ে ফেলা হয়।

 

ওই ঘটনার পর পশ্চিমা মিত্রদের সামনে বড় ধরনের বেকায়দায় পড়ে সৌদি আরব। অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কার কর্মসূচির জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাহবা পেয়ে আসা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভাবমূর্তিতেও কালি পড়ে খাশুগজি হত্যার ঘটনায়।  

 

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা বলে আসছেন, যুবরাজ মোহাম্মদের নির্দেশেই খাশুগজিকে হত্যা করা হয় বলে তাদের ধারণা। অন্যদিকে রিয়াদ বরাবরই খাশুগজি হত্যার পেছনে যুবরাজের হাত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে।

 

জাতিসংঘের তদন্ত দলের প্রধান অ্যাগনেস ক্যালামার তার প্রতিবেদনে বলেছেন, খাশুগজিকে জোর করে সৌদি আরবে ধরে নিয়ে যাওয়া সৌদি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য ছিল কি না, আর তাতে ব্যর্থ হয়ে ঘটনাচক্রে তাকে কনসুলেটের ভেতরে হত্যা করা হয় কি না- সে বিষয়টি তাদের তদন্তে স্পষ্ট হয়নি। 

 

তবে সৌদি আরব যে তুরস্কের তদন্তকারীদের কাজে নানাভাবে বাধা দিয়েছে, তাদের কনসুলেটের ভেতরে প্রবেশ বিলম্বিত করেছে, তার প্রমাণ পাওয়ার কথা বলেছে জাতিসংঘের তদন্ত দল।  

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কনসুলেটে ঢুকে তুরস্কের তদন্ত করার এখতিয়ার আছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলে সৌদি আরব তদন্তকারিদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন বিলম্বিত করেছে ১৩ দিন। তার মধ্যে সব আলামত পরিষ্কার করে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। ফলে তুরস্কের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের অকাট্য প্রমাণ সংগ্রের বিষয়টি অনেকখানি কঠিন হয়ে গেছে।

 

রয়টার্স জানিয়েছে, জাতিসংঘের তদন্ত দলের এই প্রতিবেদনের বিষয়ে সৌদি আরব বা তুরস্ক সরকারের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া তারা জানতে পারেনি।

 

খাশুগজি খুন হওয়ার বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১১ জনকে বিচারের মুখোমুখি করে সৌদি আরব। তবে ওই বিচারের স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে জাতিসংঘের।

 

তদন্ত দলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কনসুলেটের ভেতরেই যে খাশুগজি খুন হয়েছে, সে বিষয়টি স্বীকার করে নিলেও তার দেহাবশেষ কোথায় আছে, সেই তথ্য প্রকাশে সৌদি সরকারের ব্যর্থতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।