20 May 2019   08:54:00 PM   Monday   BdST

যৌতুক না পাওয়ায় গৃহবধূকে পিটিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে শ্বশুর-শাশুড়ি

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ  ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নে আইরিন আক্তার নামে তিন বছরের এক কন্যা সন্তানের জননীকে তার শ্বশুর মসলিম উদ্দিন (শুকুর) , শাশুড়ি রেজিয়া খাতুন ও স্বামী আব্দুল আজিজ যৌতুকের জন্য পিটিয়ে জখম করেছে বলে অভিযোগ করেন মেয়ের পরিবার।

রবিবার দেবীপুরে আইরিন আক্তার তার পিতার বাড়ি থেকে স্বামী আব্দুল আজিজ এর বাড়িতে গেলে আব্দুল আজিজ এর পিতা ও মাতা আইরিন আক্তারকে যৌতুকের জন্য পিটিয়ে জখম করেছে বলে জানা যায়।

আহত আইরিন আক্তার বর্তমানে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

আহত আইরিন আক্তার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া থানার খড়িবাড়ী গ্রামের তসলিম উদ্দীন এর মেয়ে।
এর আগেও তার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি তাকে যৌতুকের জন্য বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও মারপিট করেন বলে জানান আহত আইরিন আক্তার।

 

এবিষয়ে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ঠাকুরগাঁওয়ে আইরিন বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন তার স্বামী আব্দুল আজিজ ও শ্বশুর মসলিম উদ্দীনের নামে। এ মামলার তারিখ ছিলো ১৯ মে (রবিবার) দুপুরে । এসময় বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের জর্জ আব্দুর আজিজ ও তার পিতাকে বলেন আইরিন আক্তারকে তাদের বাড়িতে নিবেন কিনা? তারা আইরিন আক্তারকে বাড়িতে নিয়ে যেতে রাজি হন এবং ওই দিনে আইরিন আক্তারকে তার ভাবি ইতি বেগম তার শ্বশুর বাড়িতে রাখতে যান। শ্বশুর বাড়িতে পৌঁছালে আইরিন এর শ্বশুর ও শাশুড়ি বলেন, কিছু না নিয়ে খালি হাতে কেন এসেছো? গরু ছাগল ও টাকা নিয়ে আসনি কেন ? এভাবে তাদের সাথে কথা কাটা-কাটি এক পর্যায়ে আইরিনকে পেটে লাথি ও লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারধর করতে থাকলে তার ভাবি ইতি বেগম তাকে রক্ষা করতে গেলে তার বুকে ও পিঠে লাঠি দিয়ে আঘাত করে বলে জানান আহতরা।

 

পরে আইরিন এর পিতার বাড়িতে খবর দিলে তার ভাই সাদ্দাম হোসেন ৯৯৯ নাম্বারে কল করলে ঠাকুরগাঁও সদর থানার এস আই ছাকিলা বানু ঘটনা স্থলে যান।
অমানবিকভাবে নির্যাতনে শিকার আইরিন আক্তার চিকিৎসাধীন অবস্থায় বলেন, আমি সরকারের কাছে এদের উচিত বিচার চাই যাতে করে আমার মতো কোনো নারী আর এভাবে নির্যাতিত না হয়।

 

আহত আইরিন এর ভাই ও ইতি বেগম এর স্বামী সাদ্দম হোসেন বলেন, এর আগে এমনভাবে আমার বোনকে তারা মেরে ফেরার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করেন ও কিছুদিন পরপর বোনকে মারপিট ও নির্যাতন চালায় তার স্বামী আঃ আজিজ ও তার পিতা মাতা। এবং কি আমার অসুস্থ বোনকে দেখতে গিয়ে তারা আমাকেও মারার জন্য প্রস্তুত হন। আমরা গরিব ও অসহায় বলে কি আমরা ন্যায় বিচার পাবো না? আমি সরকার ও প্রশাসনের কাছে এটার সুষ্ঠু বিচার চাই।

 

এবিষয়ে এস আই ছাকিলা বানু জানান, রবিরার আনুমানিক রাত ৮ টার দিকে আমি খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে যাই এবং তাদের অনেকের কাছে জানতে পারি যে, তাদের কোটে এখনো মামলা চলমান আছে, তাই তাদের দুই পক্ষকে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের হাউলাই দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তাদেরকে বলা হয়েছে যে, এবিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাগেরহাট -র অন্যান্য সংবাদ »