27 Jul 2018   02:45:51 AM   Friday   BdST

মফস্বল সাংবাদিকতার হালচাল-১

তানভীর হাসান তানু :
বাংলাদেশ আজ পরিণত হয়েছে ছোট্ট একটি গ্রামে। ঢাকা ও প্রধান শহরে তো বটেই জেলা বা উপজেলা পর্যায়েও সংবাদপত্র বের হচ্ছে নিয়মিত। ঢাকা থেকে প্রচারিত সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশনের অনুষ্ঠান দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছে দেশের সর্বত্র। এরপরও রয়েছে জাতীয়-আঞ্চলিক সংবাদপত্রের বিভাজন।
 
কিন্তুু ভৌত অবকাঠোমের ক্ষেত্র যাই হোক, গণযোগাযোগের বেলায় বাংলাদেশের কোনো অঞ্চলকে যে আজ আর মফস্বল বলা যাবে না, একথা যতো জোরে সম্ভব ততো জোরে দিয়ে বলতে হয় আরেকটি বাস্তবতা স্বীকার করতেই হবে দেশের নানা অঞ্চলে কর্মরত সাংবাদিকরা আমাদের মূলধারার সংবাদকর্মীদের থেকে এতটুকু বিছিন্ন নন।
 
তারা মূলধারার সাংবাদিকতারই সক্রিয় অংশ। তারকা হতে হবে এমন ধারনা পোষন না করে অনেক পথিকৃৎ সাংবাদিক আছেন জাতীয় কাগজগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ পাঠিয়ে থাকেন।
 
রাজধানী বাইরে থাকেন বলে মফস্বল সাংবাদিক বা স্থানীয় সাংবাদিক। আর এ-সাংবাদিকদের যে চর্চা তাই স্থানীয় সাংবাদিকতা বা মফস্বল সাংবাদিকতা। অবশ্য মফস্বল সাংবাদিকতাকে হাল সময়ে গ্রাম সাংবাদিকতা, প্রান্তিক সাংবাদিকতা, আঞ্চলিক সাংবাদিকতা নামেও আখ্যায়িত হয়।
 
সত্যিকার অর্থে জেলা বা উপজেলার কিছু সাহিত্য,সংস্কৃতিমনা তরুণ-তরুনী সমাজ বদলের স্বপ্ন, গণমানুষের অধিকার আদায়ের স্বপ্ন, হাজারো স্বপ্ন বুকে লালন করে এসে সাংবাদিক হতে চায়, কিন্তুু পাকা রাস্তার শেষ মাথায়ই থমকে দাড়ায় নগর।
 
তাই জাতীয় পত্রিকাগুলোতে তাদের জায়গায় বরাদ্দের ক্ষেত্র সীমারেখা টেনে দেয়। ফলে ওই সীমাবদ্ধ জায়গায় শুধু প্রান্তিক মানুষের পড়ে পড়ে মার খাওয়া ছাড়া কিছুই আসেনা। স্থানীয় সাংবাদিকরা যখন তাদের নিজের পত্রিকা দ্বারা অবমূল্যায়িত হন তখন তাদের পেশার প্রতি অনীহা চরম পর্যায়ে পৌঁছে। এটি তাদের জন্য এক কঠিন বান্তবতা।
 
এ বিষয়ে পত্রিকার একজন স্থানীয় প্রতিনিধির অভিমত,আমরা স্থানীয় সাংবাদিকরা হয়তো কোনো ক্লু ধরে একটি প্রতিবেদন ঢাকায় পাঠালাম প্রতিবেদনটি ছাপার পর এলাকায় খুব আলাপ আলোচনা সৃষ্টি হলো। কিন্তুু এরপর দেখা যায়, আমাদের বাদ দিয়ে এ বিষয়ে রিপোর্ট করার জন্য ঢাকা থেকে হয়তো একজন ষ্টাফ রিপোর্টার বা সিনিয়ার রিপোর্টারকে পাঠিয়ে দিলো। তিনি এখানে এসে স্থানীয় বাস্তবতা না দেখে স্থানীয় জনমত না বুঝে, তার মতো একটি প্রতিবেদন তৈরি করে পাঠিয়ে দিলেন। এটিকে কেউ কেউ অবমূল্যায়ন বলেন না, বলেন প্রাথমিক প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দিয়েই এ কাজ করা হয়। কিন্তুু এটা গুরুত্ব বিবেচনা করে গুরুত্বসহকারে প্রকাশের প্রাথমিক স্তর। কিন্তুু তাও সত্যি কথা নয়। কিংবা সত্যি হলেও তা না হওয়াই ভালো।
 
কেননা তাতে আর যাই হোক সুশাসনের ব্যঘাত ঘটে। এমন উদাহরণও আছে পত্রিকার পাতায় নিজের পাঠানো সংবাদ ছাপানোর জন্য স্থানীয় সাংবাদিকরা অনেক সময় প্রেরিত প্রতিবেদনের সাথে মফস্বল সম্পাদককে একপ্রস্থ চিঠি অথবা নিজেকেই স্বয়ং মফস্বল সংবাদিকের সামনে যেতে হচ্ছে। মানুষ হিসেবে সাংবাদিকের কোনো শ্রেনীবিন্যাসের দরকার হয়তো নেই। তবুও একটি গন্ডি তৈরি হয়ে গেছে। আধুনিক প্রযু্িক্তর কম্পিউটার ই-মেইল, ইন্টারনেট, অত্যাধুনিক অফসেট ছাপাখানার বাহারি রঙের কলেবরে দৈনিক পত্রিকার সৌন্দর্য্য বেড়েছে। কিন্তুু উন্নত হয়নি লেখার মান ও বিষয়। প্রায় সবগুলো পত্রিকার ঝোঁক হালকা ও চটুল বিষয়ের প্রতি। জাতীয় কাগজগুলোর মূলসুর হচ্ছে উদ্দেশ্য প্রনোদিত। সে ক্ষেত্রে আঞ্চলিক কাগজগুলো পাঠককে বিন্যাসের ক্ষেত্র আত্নতৃপ্তির সন্ধান না দিতে পারলেও শ্রেণী, ভিত্তিহীন সমাজের প্রতিটি কর্মকান্ডই তুলে ধরার মনোবৃত্তি পোষন করেন।
 
আমরা জানি স্থানীয় পর্যায়ের সাংবাদিকতা বিস্তর সমস্যায় আর্কীন। কাজেই স্থানীয় প্রোপটে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে বুঝতে হলে এসব সমস্যার আলোকে বুঝতে হবে। স্থানীয় সাংবাদিকরা কতটা লিখছেন বা লিখতে পারছেন তা তলিয়ে দেখতে হবে। না লিখতে পারলে এর অন্তর্নিহিত কারণগুলো খুঁজে দেখতে হবে। মূল কারণগুলো খুঁজে বের করতে না পারলে একই সমস্যার ঘূর্ণাবর্তে থাকবে স্থানীয় সাংবাদিকতা, এগুবে না। ক্ষেত্র কয়েকটি বিষয় গুরুত্বের সাথে ভাবনার দাবি রাখে। এমন না যে বিষয়গুলো প্রথমবার উল্লিখিত হচ্ছে।
 
বহুজনের বহুবার উচ্চারিত বিষয়গুলো পুনঃচিন্তার খোরাক জোগায়। এর মধ্যে একটি হলো পেশা হিসাবে সাংবাদিকতা গ্রহন করতে না পারা। অপরটি হলো স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের চাপ, হামলা মামলা ইত্যাদি। এছাড়া রয়েছে নিজেদের ঘরের সমস্যা অনৈক্য ও দলাদলি।
 
পরবতীতে পর্বে মফস্বল সাংবাদিক নিয়ে আবারো আসছি।
 
তানভীর হাসান তানু
গণমাধ্যমকর্মী,
দৈনিক ইত্তেফাক,ঠাকুরগাঁও।