17 Feb 2014   02:14:50 AM   Monday   BdST

বিয়ের রাতে...

জেবা আক্তার, নিজস্ব প্রতিবেদক নিউজবুকবিডি
 ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি : সেদিন ছিল বিয়ের রাতের ভোর।
দরজায় হবু শ্বাশুড়ির হুলুস্তুল ডাকাডাকি। নির্ঘাত বারটা বেজে গেছে! মেয়েটা ভাবছে, হায়! স্বর্বনাশ! এ পরিস্থিতিতে ডাকের সাড়া কেমনে দিবে! তার ত বেজায় লজ্জা! অপ্রস্তুত শাড়ির পার ঠিক করতে করতে প্রস্তুতি নিচ্ছিল লজ্জাবতী মেয়েটি। সিনেমায় দেখা নতুন বউয়ের মতই আজ বলবে সে-’এইত মা,আসছি…।’
কিন্তু কে জানত ছেলেটা ভেতর থেকে এমন চ্যাটাং করে উত্তর দিয়ে দিবে-’ মা আরেকটু পরে আসতো…আমি এখন ল্যাংটা!
এমন শটাং সত্য কেউ কাউকে বলে!


মেয়েটা অবাক! অবাক সেদিনও হয়েছিল যেদিন ছেলেটা ওকে প্রথম দেখতে এসেছিল। মায়ের অনুরোধের ঢেঁকি গিলে,মধ্য দুপুরে কটকটে কমলা শাড়ি পড়ে সে গিয়েছিল কেএফসিতে। দেখতে যথেষ্ট জঘন্য লেগেছে, তার আয়না ছাড়াও অনেকে বলেছে। ভালই হল,জত জঘন্য লাগবে তত লাভ! মনে মনে মেয়েটার ছিল জি বাংলার সিরিয়ালের চাল! পাত্র পছন্দ না করলে বিয়ের ঘন্টা বাজতে বিলম্ব। আর বিলম্ব মানেই ত সামনের অনার্সের চার বছর প্রেমের ঘন্টার ঘনঘটা!
কিন্তু বিধিবাম!


বিধাতাই আসল চাল চেলে দিলো! রাতের কলে জানা গেল,সাদা শার্ট পরা লেকলেকে ছেলেটার মেয়ে পছন্দ হয়েছে!
মেয়েটা ছেলেটার কোন তালই খুঁজে পেলো না। অথচ,মুরব্বীদের হাত ধরে, তাদের মধ্যে একটা গভীর রিলেসানের দফারফা হয়ে গেছে।

এরপর বিয়ের পঞ্চম রাত:
মেয়েটা শাড়ি পরে সেজেগুজে পরিপাটি।রাত নয়টা দশ।স্বামী ছেলেটা এক্ষনি এসে পড়বে। আজকের রাত যেহেতু অনেক বড়..তাই প্রশ্নটার উত্তর আজই জানা সম্ভব।
ছেলেটা একটু সিনেমাটিক ঘনিষ্ট হতেই মেয়েটা বলে- আচ্ছা তুমি আমাকে কতটুকু ভালোবাস ?
ছেলেটা বলল-’ বিশ পার্সেন্ট!’
বিশ পার্সেন্ট?মেয়েটা শুনে থ!বুঝতে পারছে না তার কান্না করা উচিত কিনা ?কান্নাও কেন জানি আসছিল না।ছেলেটার স্বর এত স্বাভাবিক।অস্বাভাবিক কান্না সে কি করে বাঁধায়!
মেয়েটা কাঁদল না।কিন্তু, ভালবাসার পার্সেন্টিজ বাড়াতে তড়িঘড়ি শুরু করে দিল।ওদিকে মেয়েটার আবার একটু কবি কবি ভাব… সমস্যা আছে।রোজ অফিসবাসী ছেলেটাকে ইয়া বড়বড় প্রেমের মেসেজ দিতে শুরু করে।


ছেলেটা বড় আবেগ, ছোট আবেগ, বড় মেসেজ, ছোট মেসেজ, সব মেসেজেরই একি উত্তর দেয়–
দেয়–’আই লাভ ইউ….’
মেয়েটার খটকা লাগে।এরপর সে মেসেজে অন্য ইঙ্গিত দেয়।
তাড়াতাড়ি বাসায় আসার ইঙ্গিত। মেয়েটা লিখে–’কিছু ভালো লাগে না….’
ছেলেটার এবারের রিপ্লাই ও –’আই লাভ ইউ…’
মেয়েটা ভেবে পায় না বিশ পার্সেন্ট ভালোবাসা থেকে এত ‘লাভ’ কোত্থেকে আসে !


মেয়েটা বছর যাবার অপেক্ষা করে।মেরেজ ডে এলে পঞ্চম রাতের প্রশ্নটা সে আবার করবে বলে।সাথে আরেকটা প্রশ্ন করবে সে।
বছর শেষ হয়,মেয়েটা একি প্রশ্ন করে।ছেলেটা রেজাল্ট জানায়।
-’চল্লিশ পার্সেন্ট!’
কি?চল্লিশ পার্সেন্ট?
একবছর একরুমে বসবাসের অধিকারে মেয়েটা এবার ছেলেটার কলার চেপে ধরে।চল্লিশ পার্সেন্ট? শয়তান স্বামী ….তোকে ত আমি বেহুদায় হ্যান্ড্রড পার্সেন্ট ভালবাসি। কতকত ছেলেদেরকে বলতে দেখছি জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসে। আর……


ছেলেটা এত স্বল্পভাষী…মেয়েটার ঝগড়া এগোয় না।
শান্ত ভাবেই সে বলে…-’ওরা ত কখনো জীবন আর ভালোবাসার সূত্র ঘাটে না।তাৎক্ষণিক রেহাই খোঁজে।কিন্তু তুমি আমি ত তাৎক্ষনিক নই সোনামনি….।হঠাৎ হয়েছি দুজন দুজনার, কি কারনে ভালবাসব তা জানার আগেই। তাইত এখন দেখছি…ভাল লাগছে….মাত্রাও বাড়ছে……সামনে দেখি কত হয় !’
মেয়েটা এবার প্রশ্রয় পেয়ে যায়। কলারের হাতটা বুকে এসে যায়…দ্বিতীয় প্রশ্নটা করেই ফেলে।—’আচ্ছা,তুমি যেদিন আমাকে দেখেছিলে সেদিন ত আমাকে জঘন্য লেগেছিল…তবু কেন বিয়ে করেছিলে? ছেলেটা হাসে…..মেয়েটা উত্তরের জন্য জোর করে….। ছেলেটা হাসির আড়ালে উত্তর চাপা দেয়। মেয়েটা উত্তরটা ধরে নেয়…বোধ হয় লজ্জায় বিয়ে করেছিলে? বন্ধুর বোন বলে, তাই না…?’


ছেলেটা উত্তর করে না,হাত চেপে ধরে। প্রশ্নটা বিছানার চাদরে গড়াগড়ি খেয়ে নিচে পরে যায়।
গড়াগড়ি ভালবাসায় দুজনের বিয়ের বয়স বেড়ে সাড়ে তিন বছরে চলে যায়। ততদিনে মেয়েটা তার পার্সেন্টিজ বাড়িয়ে আশিতে পৌঁছে যায় …..
ছেলেটার প্রতি মেয়েটার ভালবাসা শুরুর হান্ড্রেডেই বিদ্যমান।
কেবলি ছেলেটার প্রতি মুগ্ধতা হান্ড্রেড ছাড়িয়ে যাচ্ছে…
একটা মানুষ কতটা ভাল হতে পারে মেয়েটা তার দৃষ্টান্ত খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছে..
ভালোবাসা থাকছে….
অবিরাম ভালোবাসছে…….

 

 

 

নিউজবুকবিডি/এবি.এম সুজন/২০১৪