09 Jun 2019   04:54:42 PM   Sunday   BdST

নাম ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল নেই কোন আধুনিক ছোঁয়া

রহিম শুভ ঠাকুরগাঁও:  নাম ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল। আধুনিক নামটা থাকলে দেখার মতো কোন আধুনিকতা নেই এই হাসপাতালে। চার দিকে সরগোল চিল্লাহাল্লা। নেই চাহিদা মত ডাক্তার। 

 
 
নার্সার যে যার মত রোগী দেখছে। মাঝে মাঝে রোগীদের ধমকও দেয়। রোগীরা ঘুমায় পড়লে তাদের ফোনও হারিয়ে যায় হাসপাতাল থেকে। দালালে যেন ভরা হাসপাতালটি। গোটা হাসপাতালটি ঘুরে পাওয়া যায়নি একটা স্যালাইন ট্যাংগানো ষ্টেন্ড। পিলারের সাথে রশি বেঁধে, জানালার রডে, কেউ বা বৈদ্যুতিক বক্সে স্যালাইন বেঁধে সেবা নিচ্ছে।  
 
 
১১ বছরের শিশু জারিফ এসেছে ঠাকুরগাঁও সদর খালপাড়া থেকে ৫ দিন ধরে জ্বর তার। ওষুধ খেয়ে না কমাতে হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছে। আসার পরে ইমারজেন্সি ওয়ার্ডে একজন কর্তবত্য ডাক্তার দেখে তাকে ভর্তি হইতে বলে। বেড না পেয়ে তার মা তাকে নিয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছে। তার মা বললেন সারারাত না ঘুমায় ছেলের পাশে বসে ছিলাম আমি। স্যালাইন টাংগিয়ে রেখেছি এমনি ষ্টেন্ড নেই হাসপাতালে সারারাত ভয়ে ছিলাম স্যালাইনের শুচ আবার বের হয়ে না কি না। 
 
 
কথা বললাম এক রোগীর মায়ের সাথে নাম ফাহমিদা খাতুন এসেছেন ঠাকুরগাঁও সদরের নেকমরদ থেকে, তিনি জানান প্রায় ৪দিন ধরে রয়েছি হাসপাতালে। আমার মেয়ের অনেক পেট ব্যাথা। কিছু খাইতে পারে না। তাই বাধ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করছি। ডাক্তারা সময় মতো দেখে না। নার্সরা মাঝে মাঝে এসে দেখে যায়। মেয়েকে একটা স্যালাইন যে দিব তার মত ষ্টেন্ড নাই এইখানে বাধ্য হযে জানালার ছিটকানিতে লাগিয়েছি। 
 
 
পাশের মেঝেছে থাকা আরকে মহিলার সাথে কথা বললাম তিনি বললে হাসপাতালে কোন বেড নেই। তাই কষ্ট করে মেঝেতে ছেলের চিকিৎসা করাচ্ছি। ছেলের ডায়রিয়া ২দিন ধরে রয়েছি হাসপাতালে। স্যালাইনটা যে কই টাংগাবো তার মতো কোন ষ্টেন্ড নাই। বাধ্য হয়ে আমাকে সারারাত হাত করে স্যালাইনটা ধরে থাকতে হইছে।
 
 
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন আবু মো: খয়রুল কবির বলেন, আমরা সাদ্য মতো স্যালাইন ষ্টেন্ড দিয়েছি। রোগীরা ভাল ভাবে না ব্যবহার না করাতে নষ্ট হয়ে গেছে সব। আর আশেপাশের কিছু স্থানী ছেলে  আসে হাসপাতালে পড়ে থাকে। আমার দ্রæত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব