07 Aug 2019   12:26:07 PM   Wednesday   BdST

থানায় গণধর্ষণের অভিযোগ: পরিবারকে হুমকি, ফরেনসিক রিপোর্ট পরিবর্তনের আশঙ্কা

খুলনা ব্যুরো : খুলনার জিআরপি (রেলওয়ে) থানায় মহিলাকে আটকে রেখে ওসির নেতৃত্বে গণধর্ষণের অভিযোগে মামলা করে চাপের মুখে পড়েছে বাদীর পরিবার। মামলা তুলে নিতে হুমকি দেয়া হচ্ছে।

 

বাদীপক্ষ ফরেনসিক রিপোর্ট পরিবর্তনের আশঙ্কা করছে। এদিকে ঘটনা তদন্তে পুলিশ সদর দফতর থেকে একজন এসপির নেতৃত্বে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি সোহেল রানা বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত রেলওয়ে পুলিশ খুলনায় ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এক নারী আসামিকে ধর্ষণের অভিযোগ সংক্রান্ত সংবাদ পুলিশ সদর দফতরের নজরে এসেছে।

 

অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এ বিষ?য়ে অনুসন্ধান করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য রেলওয়ে পুলিশ সদর দফতরের এসপি সেহেলা পারভীনের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

 

সোমবার রাতে গঠিত তদন্ত কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে এসপি সেহেলা পারভীন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বলেন, কমিটি গঠনের কথা আমি মৌখিকভাবে শুনেছি। এখনও লিখিত কাগজ হাতে পাইনি। লিখিত আদেশ হাতে পেলে সে অনুযায়ী তদন্তকাজ শুরু করব।

 

ধর্ষণের শিকার নারীর বোন হোসনে আরা মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, জিআরপি থানার ওসি দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করতে বলেছিল।

 

এমনকি আমার পা পর্যন্ত ধরতে চেয়েছিল। সোমবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেডিকেল টেস্ট করার পর থেকে বিভিন্ন মহল থেকে আমার কাছে লোক পাঠানো হচ্ছে। সমঝোতার জন্য চাপ দেয়া হচ্ছে।

 

অন্যথায় বড় ধরনের ক্ষতি হবে বলে হুমকি দেয়া হচ্ছে। প্রশাসনের বিভিন্ন মহল থেকেও চাপ আসছে। মনে হচ্ছে, মেডিকেল রিপোর্ট পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।

 

বাদীপক্ষের আইনজীবী ফারুক বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ করার পর বিচারক মেডিকেল রিপোর্টের নির্দেশ দিয়েছেন। রিপোর্ট আসার পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলা যাবে।

 

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. শফিউজ্জামান বলেন, তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম ধর্ষণের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করেছে।

 

এর মধ্যে গাইনি বিভাগ, রেডিওলজি এবং ফরেনসিক বিভাগের সদস্য ছিল। প্যাথলজিতে সিরিয়াস জটিলতা আছে। তাই রিপোর্ট পেতে পাঁচ থেকে সাত দিন লাগতে পারে।

 

রিপোর্ট শতভাগ স্বচ্ছ হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। উল্লেখ্য, ২ আগস্ট শুক্রবার হোসনে আরার বোন যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসেন। ট্রেন থেকে নামার পর রাত সাড়ে ৭টার দিকে খুলনা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশের সদস্যরা তাকে আটক করেন।

 

গভীর রাতে জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসমান গনি পাঠানসহ ৪ জন পুলিশ সদস্য পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে।

 

পরদিন হোসনে আরার বোনকে মাদকের একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে বিচারকের সামনে হোসনে আরার বোন অভিযোগ করেন, জিআরপি থানায় তাকে ওসির নেতৃত্বে গণধর্ষণ করা হয়েছে। এরপর বিচারক ডাক্তারি পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

 

এ ছাড়া বিষয়টি আমলে নিয়ে সোমবার পাকশী রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

 

কমিটির প্রধান হলেন কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফিরোজ আহমেদ। অপর দুই সদস্য হলেন কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের ডিআইও-১ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শ ম কামাল হোসেইন ও দর্শনা রেলওয়ে ইমিগ্রেশন ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাহারুল ইসলাম।

 

তদন্ত কমিটি এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। মঙ্গলবার খুলনা জিআরপিতে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদও করেছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।