06 May 2019   05:26:59 PM   Monday   BdST

ঠাকুরগাঁওয়ে শালিস মনোপুত না হওয়ায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ

রহিম শুভ ঠাকুরগাঁও : জমি জমার বিরোধ আপোষে নিস্পত্তির কয়েক ঘন্টার মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মধুপুর গ্রামে আব্দুস সাত্তার নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।এলাকাবাসী বলছেন শালিস মনোপুত না হওয়ায় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে নিজেরা নিজেদের ঘরে আগুন দিয়েছে।

 
জানা যায়, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মধুপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের পিতা তারাব উদ্দীন ও আব্দুল কাদের একই বংশীয় লোক বটে।তারাব উদ্দীন ৪টি খতিয়ানে ৭০ শতক জমির মালিক।কিন্তু তিনি ওইসব খতিয়ানের ১একর ১৫ শতক জমি অনেক আগেই বিক্রি করে দেন।পরবর্তীতে তিনি মধুপুর ঈদগা দাখির মাদ্রাসার কাছে পাকা বাড়ি নির্মান কাজ শুরু করেন।ওই বাড়ির সম্মুখ অংশে বাড়ি নির্মান করেন মামুন নামে অপর একজন।এ অবস্থায় রাস্তা বন্ধ হওযার উপক্রম হলে সাত্তারের পিতা তারাব উদ্দীন তার নিজের ও স্ত্রীর নামে ৪২৭৮ নং দাগে ৪ শতক জমি কিনে নেন।কিন্তু দলিলে জমির অবস্থান উল্লেখ্য করা হয় পশ্চিম অংশে সোয়া এক শতক এবং পূর্ব অংশে পৌনে ৩ শতক।বিক্রেতাদের দাবি তারাব উদ্দীনের প্রদত্ত দলিলে ৪৫ শতক জমির ঘাটতি থাকায় ২ শতক জমি তিনি পাবেন না।কিন্তু তারাব উদ্দীনের ছেলে সাত্তার সেটা মানতে রাজি না হওয়ায় স্থানীয় ছেয়ারম্যানের কাছে নালিশ দেওয়া হয়।
 
 
রোববার বিকেরে স্থানীয় চেযারম্যান মনিরুল হক বাবু ,ইউপি সদস্য ইউসুফ আলী,মজিবর রহমান মজি সহ স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ সরজমিনে গিয়ে নির্মানাধীন বাড়ির রাস্তার প্রয়োজনে স্বামী স্ত্রীর দলিলের ৪শতক জমি প্রতিপক্ষ ছেড়ে দেবেন মর্মে শালিসে ঘটনার সুরাহা দেন।তাৎক্ষনিকভাবে উভয় পক্ষ শালিসের রায় মেনে নেয়।আজ সোমবার উভয়পক্ষের লোকজনের উপস্থিতিতে বদর আমিন ডেকে জমির সীমানা বের করে দেওয়ার কথা।কিন্তু রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ৩ টায় সাত্তারের নির্মানাধীন পাকা বাড়ি সংলগ্ন অস্থায়ী শয়ন ঘরে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।এতে ধান চাল আলু কাপড় চোপড় ও বই পুস্তক সহ নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল পুড়ে গিয়ে রক্ষাধিক টাকার মালামাল পুড়ে ভস্মিভুত হয়।খবর পেয়ে দমকল বাহিনী ভোরে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার প্রতিপক্ষের মামুন,আলম ও আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন,তারা রাতের আধারে তার ঘরে আগুন দিয়েছে। অপরদিকে স্থানীয় লোকজনের দাবি সাত্তারের পিতা তারাব উদ্দীন একজন মামলা বাজ লোক।দীর্ঘদিন যাবত সাধারণ মানুষকে মামলায় ফেলে হয়রানী করে আসছে।এ বিষয়ে রুহিয়া,রুহিযা পশ্চিম এবং ঢোলারহাট ইউপি চেয়ারম্যান সহ কয়েক শতাধিক লোক তারাব উদ্দীনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরে গনপিটিশন দেয়।ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন গণপিটিশনের ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে। প্রতিবেশি মোজাম্মেল হক বলেন,তারাব উদ্দীন একজন মামলাবাজ লোক।প্রতিবেশি মুজাহারুলের বিরুদ্ধে চাচীকে ধর্ষনের অভিযোগ সহ ১২টি মামলা দায়ের করে।
 
তন্মধ্যে শয়ন ঘরে আগুন দেওয়ার মামলা দুটি। অপর ইউপি সদস্য মজিবর রহমান মজি বলেন,তারাব উদ্দীনের ছেলে সাত্তারের ঘরে আগুনের ঘটনা একটি পরিকল্পিত ঘটনা।প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে নিজেরা নিজেদের ঘরে আগুন দিয়ে মামলা দায়েরের কৌশল হিসেবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য ইউসুফ আলী বলেন ,রোববার শালিসে সাত্তারের পিতাকে ৪ শতক জমি ছেড়ে দেওয়া হয়।কিন্তু তার দাবি আরো বেশি।তার শালিস মনোপুত না হওয়ায় নিজেরা এ ঘটনা ঘটিয়ে প্রতিপক্ষকে হযরানির কৌশল নিয়েছে। এ ব্যাপারে রুহিয়া থানর ওসি প্রদীপ কুমার রায় বলেন,মধুপুর গ্রামের তারাব উদ্দীন ও কাদেরের মধ্যে বিরোধ নিস্পত্তিতে রুহিয়া থানার পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়।কিন্তু কাদের পক্ষ শালিস মানলেও তারাব উদ্দীনের ছেরেরা মানে নি।বরং আদালতে গিয়ে কা: বি: ১৪৪ ধারায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।