18 May 2019   03:33:38 PM   Saturday   BdST

ঠাকুরগাঁওয়ে রাজাগাঁও ইউনিয়নে সরকারি গাছ কাটছে চেয়ারম্যানের জামাতা

রহিম শুভ ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাও সদর উপজেলার রাজাগাঁও ইউনয়নের চাপাতি গ্রামে সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে লাগানো গাছ অবাধে কর্তন করে চলেছে। শনিবার ৩০ টিরও বেশি ইউক্লিপটাস গাছ কর্তন করে নিয়ে যায় যার বাজারমূল্য  প্রায় ২ লক্ষ টাকা।

 
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নে স্থানীয় কিছু যুবক ইউনিয়ন পরিষদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে বেশ কিছু রাস্তায় বৃক্ষ রোপন করে। ওইসব গাছ বিক্রির উপযুক্ত হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা সরকারকে ফাঁকি দিতে ছুটির দিনগুলোতে অবাধে কেটে চলেছে ওইসব সামাজিক বনায়নের গাছ। 
 
 
বিশেষ করে  চাপাতি গ্রামটি জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দুরে এবং পাশর্^বর্তী পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার গাঁ ঘেঁষে হওয়ায় এখানকার অসাধু চক্রটি নিয়ম কানুনেসর তোয়াক্কা না করে অবাধে সরকারি গাছ কর্তন কেটে বন সম্পদ উজার করে চলেছে।
 
 
স্থানীয়রা জানান, গত ২ মাসে প্রায় ২ হাজার গাছ কর্তন করেছে। একটি গ্রামে প্রতি শুক্র ও শনিবার অফিস ছুটির দিনের সুযোগ নিয়ে অবৈধভাবে গাছ কর্তন করে নিজেরা লাভবান হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় চাপাতি গ্রামের নুর ইসলাম ও বুলু নামে ২ ভাই তাদের জমির পাশে গ্রাম্য রাস্তার ১৫/২০টি ইউক্লিপটাস গাছ স্থানীয় জাভেদ নামে এক কাঠ ব্যবসায়ীর নিকট বিক্রি করলে শুক্রবার সকালে গাছ কর্তনের মহোৎসব শুরু হয়। সংবাদ কর্মীরা হাজির হলে গাছ খাদক বুলু ও নুরু  কর্তনকৃত গাছ নিজেদের লাগানো দাবি করে । নুর ইসলাম স্থানীয় চেয়ারম্যান মোশারুল ইসলাম সরকারের জামাতা বলে জানায় স্থানীয়রা।
 
 
স্থানীয় বাসিন্দারা সবকিছু জেনেও ভয়ে বাঁধা দিচ্ছে না। মাস দুয়েক পূর্বে ওই চক্রটিকে গাছ কাটায় বাঁধা দেওয়ায় ওই চক্রটি রিপন নামে এক যুবককে পিটিয়ে জখম করে। পরে দীর্ঘদিন তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।এ কারণে অনেকে দেখেও না দেখার ভান করছে।
 
 
এ ব্যাপারে রাজাগাঁও ইউনিয়ন সচিব শফিকুল ইসলাম জানান, সামাজিক বনায়ন বা গ্রাম্য রাস্তার গাছ কাটতে হলে চেয়ারম্যানের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। ইউনিয়ন পরিষদ ওই গাছ কাটার উপযুক্ত মনে করলে ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশন উপজেলা পরিষদের সভায় অনুমোদন শেষে বন বিভাগ দাম নির্ধারণ করবেন। দাম নির্ধারণ শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার টেন্ডার আহবান করবেন। টেন্ডার অন্তে ওই গাছ কাটা যাবে। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে অবাধে কেটে চলেছে সরকারি বৃক্ষ। এতে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে । অপরদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
 
 
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মোশারুল ইসলাম সরকার জানান, শুক্রবার চাপাতি গ্রামের বুল নামে একজন রাস্তার পাশের গাছ কর্তনের সংবাদ পেয়েছি। খোজ নিয়ে জেনেছি গাছগুলি ওই ব্যক্তির জমিতে লাগানো। কেউ অবৈধভাবে গাছ কাটলে তাদের বিরুদ্ধে কাটলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
 
রুহিয়া থানার ওসিকে গাছ কর্তনের সংবাদ জানানোর পরও তিনি অজ্ঞাত কারণে নিরবতা পালন করেন। তিনি নিয়মের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, গাছগুলোর মালিক যেহেতু চেয়ারম্যান বা স্থানীয় সরকার। নিয়ম অনুযায়ী তারা ব্যবস্থা নেবেন। এটা পুলিশের কাজ নয়।
 
 
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,গ্রাম্য রাস্তার পাশে সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে লাগানো কোন গাছ টেন্ডর চাড়া কর্তনের কোন সুযোগ নেই। কেউ অবৈধভাবে গাছ কর্তন করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। 
জেলা-উপজেলা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ »