04 May 2019   07:33:31 PM   Saturday   BdST

ঠাকুরগাঁওয়ে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঝলসে, গেছে ৩০ একর জমির ফসল

রহিম শুভ ঠাকুরগাঁও  : ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আক্চা ইউনিয়নে দুটি ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে ৩০ একর জমির ইরি-বোরো ধান ক্ষেতসহ অন্য ফসল পুড়ে নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

 
শনিবার দুপুরে উপজেলার আক্চা ইউনিয়নের দক্ষিণ বঠিনা গ্রামের কৃষকরা এমন অভিযোগ করেন। 
 
 
স্থানীয়রা জানান, দক্ষিণ বঠিনা গ্রামে অবস্থিত এমএস বিক্সের মালিক মুরাদ হোসেন ও শামা বিক্সের মালিক মো. হুমায়ুন কবীর। এই দুই ইটভাটা থেকে বিষাক্ত ধোঁয়া নির্গত হওয়ায় ২৫ একর জমির ইরি-বোরো ধান, ৩ একর আম ও লিচু বাগান, ১ একর মরিচ ও ১ একর ভুট্টা ক্ষেত পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। 
 
 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অবৈধভাবে কৃষি ও আবাসিক এলাকায় এমএস বিক্স ও শামা বিক্স নামে দুটি ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে। এই দুইটি ইটভাটা থেকে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া আশপাশের কৃষি জমিতে নির্গত হওয়ার কারণে ৪১ জন কৃষকের ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইরি-বোরো ধানের। ফসলের ক্ষতি হওয়ায় কৃষকদের চোখে-মুখে ছিল হতাশা আর দুশ্চিন্তার ছাপ। 
 
 
দক্ষিণ বঠিনা গ্রামের কৃষক আব্দুস শহীদ বলেন, বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নিয়ে ২ একর জমিতে ইরি-বোরো ধান রোপন করেছি। এতে তাঁর অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে। তাঁর আশা ছিল, ধান কেটে ঋণের টাকা পরিশোধ করবেন। কিন্তু ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় ক্ষেত পুরোটাই পুড়ে গেছে। 
 
 
বিপ্লব হোসেন বলেন, আমার এক একর জমির মধ্যে আম বাগান ছিল। গাছগুলোতে ভালোই আম ধরেছিল; কিন্তু ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় আমার আম বাগানকে নষ্ট করে দিয়েছে। এতে করে প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। 
 
 
হরিমহন বর্মন বলেন, ইচ্ছে ছিল এবার ধান বিক্রি করে মেয়ের বিয়ে দিব; কিন্তু আমার সেই ইচ্ছে আর পুরণ হলো না। দুই ইটভাটা আমার ইচ্ছেকে মেরে ফেলেছে। ইটভাটার ধোঁয়ায় ঝলসে যায় তার এক একর জমির ধান। 
 
 
কৃষক সামসুল হক বলেন, দুই ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ৪১ জন কৃষকের ৩০ একর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এতে করে ৫০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি করেন তিনি। 
 
 
এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম ও আক্চা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুব্রত কুমার বর্মন। 
 
 
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ৪১জন কৃষকের ৩০ একর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ধানের ক্ষতি হয়েছে। কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে; পরবর্তীতে তালিকা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হবে। আশা করি ইটভাটা মালিকগণ কৃষকদের ক্ষতিপুরণ দিবেন। 
 
 
শামা বিক্সের মালিক মো. হুমায়ুন কবীর এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার ইটভাটাটি হাওয়া ভাটা; এই ভাটা থেকে বিষাক্ত ধোঁয়া বের হওয়ার কোন সুযোগ নেই। কৃষকদের ফসল আমার ভাটার ধোঁয়া থেকে ক্ষতি হয়নি। এটি এমএস বিক্স ইটভাটা থেকে হতে পারে।
 
 
এমএস বিক্সের মালিক মুরাদ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 
 
 
সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ইটভাটা দুটো কেমন করে কৃষি ও আবাসিক এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে ও কিভাবে কৃষকদের ফসলের ক্ষতি হলো  আমরা সেটি খতিয়ে দেখছি। সেই সাথে কৃষকদের ক্ষতিপুরণ দেওয়ার ব্যবস্থা নেয়া হবে।