19 Jun 2019   12:27:27 PM   Wednesday   BdST

টমেটো চাষে ভাগ্য বদল গেছে পঞ্চগড় কৃষকদের

পঞ্চগড় থেকে ফিরে:  টমেটোর চাষ বদলে দিয়েছে পঞ্চগড়ের মানুষের জীবনচিত্র। প্রতি বছরই এখানে বৃদ্ধি পাচ্ছে টমেটোর চাষ। গত বছরের চেয়ে এ বছর জেলায় প্রায় তিনগুণ বেশি জমিতে টমেটোর চাষ হয়েছে। এখানকার টমেটোর আকার ও গুণগতমান ভালো হওয়ায় সারা দেশে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও কৃষক। 

 
জীবনচিত্র বদলে দেয়ার পাশাপাশি টমেটো চাষ সৃষ্টি করেছে এ এলাকার হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান। 
 
 
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে জেলায় টমেটোর চাষ হয়েছিল ৭৭০ হেক্টর জমিতে। এবার চাষ হয়েছে প্রায় ২ হাজার ২৫২ হেক্টর জমিতে, যা গত বছরের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি।
 
 
কৃষকরা জানান, এবারে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় টমেটোর ফলন ভালো হয়েছে এবং বর্তমানে টমেটোর দাম এবং চাহিদাও ভালো থাকায় লাভবান হচ্ছেন তারা। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা পঞ্চগড়ে আসছেন টমেটো ক্রয়ের জন্য। এসব টমেটো এখান থেকে ক্রয় করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। 
 
 
তারা জানান, টমেটোর চাষ অন্য কোনো জেলায় খুব বেশি হয় না। কিন্তু পঞ্চগড় জেলায় টমেটোর চাষ ব্যাপকভাবে হয়ে থাকে। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত পাইকার এখানে আসেন টমেটো ক্রয়ের উদ্দেশে। 
 
 
জেলা সদরের আশপাশে গড়ে উঠেছে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ অস্থায়ী বড় আড়ত। এসব আড়তে প্রায় ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার শ্রমিক বর্তমানে টমেটোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। টমেটো চাষ এ এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করে আসছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে এখান থেকে বর্তমানে প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০ ট্রাক টমেটো ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা। 
 
 
জেলার মধ্যে হাঁড়িভাষা,  
চাকলা, টুনিরহাট, গলেহা, জিয়াবাড়ি, চৌধুরীহাট, তালমা, ওমরখানা, হাফিজাবাদ, মডেলহাট প্রভৃতি এলাকায় প্রচুর পরিমাণে টমেটোর চাষাবাদ হয়।
 
 
পঞ্চগড় জেলা শহরের জালাসি এলাকার আড়তদার মোঃ হযরত আলী জানান, প্রতি বছর গ্রীষ্মকালীন টমেটোর এ মৌসুমে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত পাইকার এখানে আসেন টমেটো ক্রয় করার জন্য। জেলায় প্রায় ৫০০ অস্থায়ী আড়ত গড়ে উঠেছে। একেকটি আড়তে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জনের মতো শ্রমিক কাজ করে থাকেন। টমেটোর মৌসুমে জেলার প্রায় ২৫ হাজারেরও বেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। 
 
 
তিনি আরও জানান, স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে এখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ৯০ ট্রাক টমেটো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে। 
 
 
জেলার ছিটমহল এলাকার ভ্যানচালক মোঃ শাহিনুর আলম জানান, বছরের অন্যান্য সময়ে ভ্যান থেকে তার আয় হয় ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মতো। বর্তমানে তার ভ্যান থেকে দৈনিক আয় হচ্ছে ৫০০ টাকার মতো। তার মতো আরও কয়েক হাজার ভ্যানচালক লাভবান হচ্ছেন। এপ্রিল, মে, জুন পর্যন্ত আয় বেশি হবে বলে জানান তিনি।
 
 
জেলার সদর উপজেলার সাহেব বাজার এলাকার কৃষক দেলোয়ার জানান, এ বছর তিনি ৫ বিঘা জমিতে  টমেটোর চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার টাকার মতো। আর এ পর্যন্ত তিনি টমেটো বিক্রি করেছেন প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার। বাকি টমেটো আরও প্রায় ১ লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন। বর্তমানে প্রতি মণ টমেটো ১৩শ` থেকে ১৪ শ` টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
 
 
কুমিল্লা থেকে আসা টমেটো ব্যবসায়ী জহির উদ্দিন শেখ জানান, প্রায় ১৭ বছর ধরে টমেটো ক্রয় করার জন্য পঞ্চগড়ে আসছেন তিনি। এখান থেকে টমেটো ক্রয় করে তিনি ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেটসহ সারা দেশে বিক্রয় করে থাকেন। 
 
 
তিনি জানান, বর্তমানে এখান থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ৮০ থেকে ৯০ ট্রাক টমেটো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে। 
 
 
রাজশাহী থেকে আসা টমেটো ব্যবসায়ী মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, ৪ বছর ধরে টমেটোর মৌসুমে পঞ্চগড়ে আসেন টমেটো ক্রয়ের জন্য। এখানকার টমেটোর আকার এবং মান ভালো হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা ব্যাপক এবং দামও ভালো। 
 
 
 
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আবু বক্কর জানান, পঞ্চগড় জেলার কৃষকরা টমেটো চাষে বেশ লাভবান হচ্ছে। গত বছরের চেয়ে এবারে টমেটোর চাষ জেলায় প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে টমেটো চাষ বড় ধরনের ভূমিকা পালন করে আসছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি টমেটো চাষ এ এলাকার বিপুল পরিমাণ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। টমেটোর চাষ বৃদ্ধিতে জেলা কৃষি বিভাগ কৃষককে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছে।
 
জেলা-উপজেলা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ »