01 Apr 2019   02:40:26 PM   Monday   BdST

ছয় মাসের কন্যাকে আছড়িয়ে মারল পিতা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি : পঞ্চগড় সদর উপজেলার জয়ধরভাঙ্গা এলাকায় বাবার হাতে রত্না আক্তার নামে ছয় মাসের এক শিশু নিহত হয়েছেন। এ সময় ওই ব্যক্তির ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার স্ত্রীসহ অপর দুই কন্যা গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ঘটনার পর পরই নাজিমুল ইসলাম (৪০) নামের ঘাতক পিতা পালিয়ে যায়। 

 

সোমবার সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের জয়ধরভাঙ্গা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন নাজিমুলের স্ত্রী রশিদা খাতুন (২৫), তার বড় মেয়ে নাজিরা খাতুন (৮), মেজ মেয়ে রিয়া মনি (৫)। আহত তিনজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

 

স্থানীয়রা জানায়, সোমবার সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের জয়ধরভাঙ্গা এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে নাজিমুল ইসলাম স্ত্রী রশিদা খাতুনের সাথে ঝগড়ার একপর্যায়ে প্রথমে ছোট মেয়ে রত্না আক্তারকে মাটিয়ে আছড়িয়ে হত্যা করেন। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার স্ত্রী রশিদা ও অপর দুই মেয়ে কুপিয়ে জখম করেন। এ সময় তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে পালিয়ে যায় নাজিমুল। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে থেকে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আহত তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থান ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

 

আহত রশিদা খাতুনের বাবা রশিদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরেই নাজিমুল ও তার পরিবারের লোকজন আমার মেয়েকে নানাভাবে নির্যাতন করে আসছে। এ নিয়ে বিচার-সালিস ও মামলাও হয়েছে। রবিবার আমার মেয়ে আমার বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়িতে যায়। সকালে মানুষের কাছে খবর পাই আমার ছোট নাতনিকে মাটিতে আছড়িয়ে হত্যা করেছে নাজিমুল। তারপর আমার মেয়ে ও দুই নাতনিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছে। আমি এ ঘটনায় নাজিমুলসহ জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। 

 

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মনসুর আলম বলেন, স্থানীয়রা সকালে ওই পরিবারের চারজনকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। তাদের মধ্যে ছোট শিশুটিকে আমরা মৃত অবস্থায় পাই। বাকি তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জখম হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। 

 

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু আক্কাছ আহমদ বলেন, পারিবারিক কলহের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা মনে করছি। ঘটনায় সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।