05 May 2014   02:28:30 PM   Monday   BdST

গণমুখী ও দরিদ্রবান্ধব জেলা বাজেটের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ৫ মে : আসন্ন বাজেট ২০১৪-১৫ কে সামনে রেখে বাজেট বিষয়ে অনগ্রসর জনগোষ্ঠী কৃষক, শ্রমিক, প্রতিবন্ধী, দলিত, আদিবাসীদের চাহিদা ও দাবি বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে জাতীয় পর্যায়ে সক্রিয় ২৭ টি সমমনা সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত বাজেট বিষয়ক নাগরিক মোর্চা আজ ৫ মে, ২০১৪ বেলা ১১.০০ মিনিটে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদেরকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন নাগরিক মোর্চার অন্যতম সদস্য সংগঠন সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান-সুপ্র নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সংবাদ সম্মেলনের সভাপতি ডেইজি আহমেদ। মোর্চার পক্ষে লিখিত দাবিনামা পাঠ করেন বাংলাদেশ ভূমিহীন সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুবল সরকার ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণমূলক জেলা বাজেট বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা বলেন, বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে বিকেন্দ্রীভূত করে জেলা বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাজেটে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর চাহিদার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। ধনী ও ক্ষমতাবানদের স্বার্থে অনুৎপাদনশীল খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাজেট বরাদ্দ না দিয়ে দারিদ্র্য নিরসনে উৎপাদনশীল খাতে অগ্রাধিকার দিয়ে গণমুখী বাজেট প্রণয়ন করতে হবে।


সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত দাবির মধ্যে অন্যতম দাবিগুলো হচ্ছে:

জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির নেতৃত্বে সকল রাজনৈতিক এবং নাগরিক প্রতিনিধির সমন্বয়ে জেলা, উপজেলা, পৌর/ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে বাজেট প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও মনিটরিং-এর জন্য কমিটি গঠন করা; জেলা বাজেট প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনী সংশোধন ও কাঠামোগত সংস্কার সাধন; বাজেটে জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য খসড়া বাজেট কমপক্ষে তিন মাস পূর্বে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা; জনঅংশগ্রহনের ভিত্তিতে কৃষকবান্ধব কৃষিনীতি প্রনয়ণ; কৃষকদের জন্য শস্যবীমা করা; খাস জমি প্রকৃত ভূমিহীনদের মাঝে বন্টন; প্রতি ইউনিয়নে একটি শস্য ব্যাংক এবং প্রতি উপজেলায় অন্তত একটি হিমাগার স্থাপন; শ্রম আদালতগুলো সক্রিয় করা; পিছিয়ে পড়া, দলিত, প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার, সাক্ষরতা ও সার্বিক জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দের আওতা ও পরিমান বৃদ্ধি; বর্তমান শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে মোট বাজেটের ন্যূনতম ২০% বরাদ্দ শিক্ষাখাতে নিশ্চিত করা; স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বরাদ্দ মোট বাজেটের অন্তত: ১০% করা; স্বাস্থ্যখাতের বাণিজ্যিকীরণ বন্ধ করা; অতি দরিদ্র রোগী, প্রতিবন্ধী, কৃষক, শ্রমিকের জন্য হেলথ কার্ড এর ব্যবস্থা করতে বাজেটে বরাদ্দ রাখা; জলবায়ু  অভিঘাত মোকাবেলায় প্রান্তিক, উপকূলীয়, নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও ঝুকিপ্রবণ এলাকার মানুষের জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দ রাখা; উপকূলীয়, চর, হাওড়, বাওড় ও পার্বত্য অঞ্চলকে  ‘‘স্পেশাল ইকোনোমিক জোন” ঘোষণা করা এবং জাতীয় বাজেটে এর জন্য সুর্নিদিষ্ট বরাদ্দ রাখা; প্রতিটি মন্ত্রণালয়/বিভাগের বাজেট এবং উপকারভোগীদের তথ্য জেন্ডারভিত্তিক পৃথক করার উদ্যোগ নেয়া। 

 

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে কথা বলেন নাগরিক মোর্চার সদস্য সংগঠন সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান-সুপ্র পরিচালক এলিসন সুব্রত বাড়ৈ, বাঁচতে শিখ নারী’র সভাপতি ফিরোজা বেগম, বিডিইআরএম’র সভাপতি সুনীল কুমার মৃধা ও এসবিএসএস’র নির্বাহী পরিচালক ফেরদৌস আহমেদ।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন এলআরসি’র শিবলী আনোয়ার; স্কোপ’র নির্বাহী পরিচালক বিলকিস আক্তার ও ডেপ নির্বাহী পরিচালক উন্নতি রানি প্রমূখ।

 

 

 

নিউজবুকবিডি/এবি.এম সুজন/২০১৪