24 Apr 2019   02:03:31 PM   Wednesday   BdST

আমাদের দেশ কিভাবে উন্নত হবে? মানবিক হবে? সমৃদ্ধশালী হবে?

লেখক লুলু আমানসুরা:  রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গোবর ছোড়াছুড়ি দিয়ে ত আর সমস্যা সমাধান হয়না শুধু চুলকানি প্রশমিত হয় তাও আবার সাময়িক। চুল্কানিবিদেরা কি তাদের রোগ সারাতে ইচ্ছুক? মনেহয় না। আমি আমার লাস্ট পোস্টে অভাব ও কুশিক্ষাকে সমাজের অশান্তির জন্য দায়ী করে ছিলাম বলে কিছু নাস্তিক বন্ধু খুব তাচ্ছিল্য করেছে। তাই দুটো কথা বিস্তারিত বলতে ইচ্ছে হচ্ছে।

 

নিউজিল্যান্ড এবং শ্রীলংকার দিকে তাকিয়েই বুঝা যায় আমার দাবি ভুল নাকি সত্য। উন্নত রাষ্ট্র এবং অনুন্নত রাষ্ট্রের দুর্ঘটনা পরবর্তী কাজ কর্মই বলে দেয় মানবিক হতে কী লাগে। নিউজিল্যান্ডের জনগণ কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে আর শ্রীলংকানরা কিভাবে দেখাবে তার সাথে তুলনা করুন। নিউজিল্যান্ডের উন্নত নাগরিকেরা এমন ভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে যে শোক ভুলে ভালোবাসায় সিক্ত হতে হয়। আমি শ্রীলংকার ক্ষেত্রে একশ ভাগ নিশ্চিত যে শ্রীলংকার মানুষেরা সেরকম প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ঘৃণার আগুন নেভাতে পারবেনা।

 

উন্নত দেশগুলো কি নাস্তিকতার চর্চা দিয়ে উন্নত হয়েছে?
সভ্যতার বাপ ব্রিটেন বিংশ শতাব্দির শুরুতে দুটো বিশ্বযুদ্ধ মোকাবেলার ধকল কিভাবে সামাল দিয়েছে? ধর্মকে গালাগাল করে? না বন্ধু, তারা সমাজ নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং সেই অনুযায়ী আইন করে নিজেদের উন্নতির চাকা চালু রেখেছেন।

 

১৯৪১ সালে ইংল্যান্ডের পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তনুযায়ী স্যার উইলিয়াম হেনরি বিভারিজ এর নেতৃত্বে আন্তঃবিভাগীয় কমিটি গঠন করা হয়। এদের অরধান কাজ ছিল বিদ্যমান ব্রিটিশ সমাজসেবা পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ পার্লামেন্টে পেশ করা। এই কমিটি কার্যক্রমের শুরু থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের সচেতন নাগরিক, বিভিন্ন সমিতি, বিমা, শ্রমিক ইউনিয়ন,,,, প্রভৃতি সংঘের বক্তব্য, পরামর্শ, সমালোচনা, পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে আঠারো মাস পর ১৯৪২ সালের নভেম্বর মাসে কমিশন তার রিপোর্ট প্রকাশ করে যা ইতিহাসে The Beveridge Report of 1942 নামে পরিচিত।

 

এই রিপোর্টে সমাজের অগ্রগতির প্রতিবন্ধকতা হিসাবে পাঁচটি বিষয় চিহ্নিত করেছে যা পঞ্চদৈত্য নামে পরিচিত। এগুলো হলো-
১) অভাব ২) রোগব্যাধি ৩) অজ্ঞতা ৪)অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশ এবং ৫)অলসতা। 

বিভারিজের মতে এই পাচ সমাজ থেকে অপসারন করা গেলে সমাজে সুখ সমৃদ্ধি আনা সম্ভব। এখানে ধর্মের কথা নাই। এবং এরা যে সুপারিশ করে সেখানেও ধর্ম নির্মুলের কোন সুপারিশ নাই। 

এদের সুপারিশ-
১) একটি একীভূত সর্বাত্মক এবং পর্যাপ্ত সামাজিক বিমা কর্মসূচি প্রবর্তন করা।
২) সামাজিক বিমার আওতাবহির্ভূত জনসাধারণের জন্য জাতীয় কর্মসূচি হিসাবে সরকারি সাহায্যের ব্যবস্থা।
৩) শিশু ভাতার ব্যবস্থা
৪) স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন কর্মসূচির ব্যবস্থা
৫) বেকারত্ব প্রতিরোধে কর্মসংস্থান সৃস্টি করা।

 

সুপারিশ বাস্তবায়নে ছয়টি মৌলিক নীতির কথা বলা হয়-
১) একীভূত প্রশাসন
২) ব্যাপক হারে কর্মসূচির সম্প্রসারণ
৩) সমহারে চাঁদা প্রদান
৪) সমহারে সুবিধা প্রদান
৫) গ্রহীতার মৌলিক চাহিদা পূরণের মত পর্যাপ্ত সার্বিক সাহায্য
৬) জনসংখ্যার শ্রেণীবিন্যাসকরণ। 
এই রিপোর্টের ভিত্তিতে অনেকগুলো আইন ব্রিটেনে পাশ হয়- পারিবারিক ভাতা আইন, বিমা আইন, জাতীয় সাহায্য আইন, স্বাস্থ্যসেবা আইন।

 

ব্রিটেন তার দেশের জনগণের অভাব দূর করতে সেই ১৫৩১ সাল থেকেই বিভিন্ন দরিদ্র আইন প্রণয়ন করেছে। সক্ষম দরিদ্রদের বাধ্যতামূলক ভাবে কাজে পাঠানো, অক্ষম দরিদ্রদের সাহায্য করা এবং ধনী আত্মীয়দের কাছে দায়িত্ব বন্টন করা, চার্চ ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণের দান সংগ্রহ করে তা অভাবীদের মধ্যে সুষ্ঠু বন্টন করা।

 

অন্যদিকে আমাদের দেশ ২০১৯ সালে এসেও এরকম গঠনমূলক কোন আইনের কথা ভাবতে পারছেনা, দেশের সমস্যা দূর করতে গবেষণার কথা ভাবতে পারছেনা, ধর্ম প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে অভাব দূর করার কথা ভাবতে পারছেনা,,,,
কারণ এসব ভাবনায় চুল্কানিময় আনন্দ নেই কিন্তু সমাধান আছে।