06 Nov 2017   11:29:07 PM   Monday   BdST

অহংকারী হাতি ও দুটি পাখি

নীড়ে ডিম বাহারে
পাখি দুটি আহারে
যতনে আদরে রঙিন
মা পাখির ডিম ,
পাখি দুটি আছে
বনের জাম গাছে ।

হঠাৎ  এলো হাতি
শুর দিয়ে গাথি
পাতা আর ছালে
 নীড়ের সেই ডালে ।

মহারাজ হাতির রব
কেপে উঠে সব
বাচান আমাদের চামড়া
দয়া চাই  আমরা ।
ডিম আর ঘর
ভাঙ্গবেন না মহাশয় ।

পাখিদের  কী ব্যাথা
হাতি শুনেনা কথা
ভাঙ্গল  ডিম তথা
ভাঙ্গল নীড় সেথা  ।
সব হল নষ্ট
আহা পাখিদের কষ্ট।


পাতা সব ভরে
হাতি মজা করে
গলা পুরে খায়
উদর ভরিয়ে যায় ।

পাখিদের চিৎকারে কান্না
কান্না বন্ধু আরনা
বন্ধুরা  মিলে বলে
প্রতিশোধ নেব ছলে ,

পিঁপড়া ব্যাঙ কাক
বলে কান্নাকাটি  থাক
উচু কর নাক
দাও জোরে  হাক ।

পরদিন সবে ঘুরে
সারাবন সারাক্ষন উড়ে
সকলে উল্লাসে মাতি
খুঁজে পেল হাতি ।

পিঁপড়া উঠল কানে
ছুটল ভিতরের পানে
 দিল ফুটিয়ে হুল
 বিঁধল ব্যাথার শুল ।

এরপরে কাক এলো
 উড়ে চোখে গেলো
ঠুকরিয়ে ঠুকিয়ে চোখ
মেটাল সব ক্ষোভ ।

চোখ দুটো বুজল
অন্ধ হাতি খুঁজল
চোখের আলো খানি
ঠোকরে ক্ষয়েছে মনি ।

অন্ধ হাতির যন্ত্রনা
চিৎকারে কেউ এলোনা
বিধল যেন দলা
শুকিয়ে গেছে গলা ,
কমে এল বল
দরকার এখন জল ,

জল খেতে পুকুরে
ব্যাঙ বলে আহারে
অন্ধ হাতি আসেরে
ব্যাঙ এসে পাশে
বড় গর্ত ফাদে
ব্যাঙ ডাকে কুয়াকুয়া
হাতির চোখে ধোঁয়া
ব্যাঙের ডাকে ভাবে
পুকুর বুঝি পাশে,
মুখে পানি ভরতে
পড়ে গেল গর্তে,
এগিয়ে সাথে সাথে
গেল  হাতি কুপোকাতে ।

 

লেখক/কবি-দেওয়ান লালন আহমেদ