27 Jul 2017   02:19:46 AM   Thursday   BdST

অবশেষে আজ মামুন ভাইয়ের মরদেহটি আনতে যেতে হচ্ছে ভারতে!

নিউজবুক ডেস্ক: ইতোমধ্যে সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেছেন আমার প্রিয় সহকর্মী সাংবাদিক মামুন ভাই। ঠাকুরগাঁওয়ে মামুন ভাইয়ের পরিবার, সহকর্মী, আত্নীয়-স্বজন সকলে অপেক্ষায় রয়েছেন শেষ বারের মত তার মরদেহটি দেখার জন্য।


অনেক নিয়মনীতি অনুসরণ করে ভারতের ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটাল (সিএমসি ভেলোর) অবশেষে প্রিয় মিঠু ভাইয়ের কাছে মামুন ভাইয়ের মরদেহটি হস্তান্তর করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মিঠু ভাই প্রিয় মামুন ভাইয়ের মরদেহটি চেন্নাই বিমানবন্দর থেকে আজ রাত ৩টা ০৫ মিনিটে রওনা হবেন বলে জানিয়েছেন।


আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় পৌছবে শিলিগুড়ি বাগডোগরা বিমানবন্দরে। ঠাকুরগাঁও থেকে আমি, প্রেসক্লাবেরর সভাপতি আবু তোরাব মানিক ও আর এক সহকর্মী রিপন সকালে ভারতের শিলিগুড়ি বাগডোগরা বিমানবন্দরের পথে রওনা দিব মামুন ভাইয়ের মরদেহটি দেশে আনার জন্য।


আপনারা সকলে দোয়া করবেন ভাল ভাবে যেন মামুন ভাইয়ের মরদেহটি তার পরিবার ও স্বজনদের কাছে নিয়ে আসতে পারি।


মামুন ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য ভারতে ভিসা প্রসেসিং না হওয়ায় প্রথমে উনার সহধর্মীনি আমাকে কল দিয়েছিলেন। বললো তানু তোমার তো ভিসা করা আছে তোমার মামুন ভাই বললো তার সাথে তুমি যেতে পারলে খুব ভাল হবে। কিন্তু পরিবারিক ও সাংবাদিকতার চাপের কারণে মামুন ভাইয়ের চিকিৎসা করার জন্য যাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও কেন জানি যেতে পারিনি। আমার না যাওয়াটা মামুন ভাইকে মনে হয় সেদিন হতাশ করেছিল। তাই আর এক সহকর্মী মিঠু ভাই মামুন ভাইয়ের সাথে চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। এখনো তিনি মামুন ভাইয়ের মরদেহটির সাথে রয়েছেন। অনেক পরিশ্রম করেছেন কয়েকদিন, এখনো করে যাচ্ছেন। মিঠু ভাইয়ের সহযোগিতা কখনো ভুলে যাওয়ার নয়। আমরা মানব জাতি হয়ে থাকলে তাকে স্মরণ করবো সব সময়। পৃথিবীতে সুখের বন্ধু পাওয়া অনেক সহজ, কিন্তু বিপদের বন্ধু পাওয়া বড়ই কঠিন। বিপদে পাশে থেকে প্রকৃত বন্ধুর উদাহরণ সৃষ্টি করলেন মিঠু ভাই, তা আমাদের মনের ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে।


মনে করেছিলাম অফিস থেকে ছুটি নিয়ে আমি ও রিপন মামুন ভাইকে আগামী মাসে দেখতে যাব। কিন্তু আজ ভারতে যেতে হচ্ছে প্রিয় মানুষটির মরদেহটি আনার জন্য। যেটি কখনোই আশা করিনি, আশা করে ছিলাম সুস্থ হয়ে মামুন ভাইকে দেশে নিয়ে আসবো। “যেন আশাই মরিচিকায় পরিণত হয়ে গেল”। অবশেষে সহকর্মীরদের কাধেঁ আপনাকে দেশের মাটিতে আনার জন্য আমাকে ও অন্যদের যেতে হচ্ছে ভারতে।


ভাবি মাফ করবেন। যেদিন মামুন ভাই ভারতে যাওয়ার জন্য আমার নামটি প্রথম উচ্চারন করেছিলেন, তার পরে আপনি আমাকে কল দিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। মামুন ভাইয়ের এই হতাভাগা সহকর্মীটি সেদিন আপনার কথাটি রাখতে না পারার যে কষ্ট, তা আজ আমাকে কুড়েঁ কুড়েঁ খাচ্ছে।


মামুন ভাই আমি কখনোই ভাবতে পারিনি যে এত তাড়াতাড়ি আপনি না ফেরার দেশে চলে যাবেন সকলকে রেখে।
অামরা যারা বি‌ভিন্ন পেশার স‌ঙ্গে জ‌ড়িত, তারা কর্ম‌ক্ষে‌ত্রে এক সময় একে অপ‌রের খুব অাপনজন হ‌য়ে যাই। বলতে গেলে ২৪ ঘণ্টার ম‌ধ্যে ঘু‌মের সময়টা বাদ দি‌য়ে বে‌শির ভাগ সময় কে‌টে যায় সহকর্মী‌দের স‌ঙ্গে। অার এই সময়টা‌তে একে অপ‌রের স‌ঙ্গে মিশে থাক‌তেই জীব‌নের সব কা‌হিনী জানা হ‌য়ে যায় সহকর্মী‌দের। কেন জানি অনেক সময় সহকর্মীদের কদর আমরা বুঝি না।


সর্ব‌শে‌ষে জানা‌তে চাই, মৃত্যুর অা‌গে প্র‌তি‌টি মানুষ অসহায় হ‌য়ে প‌ড়েন। অ‌নেক কিছু থে‌কেও যেন কিছুই নেই তা‌র। অথচ মৃত্যুর সময় সব কিছু রে‌খে একাই চ‌লে যে‌তে হয়।


তাই অাসুন সকল অহংকার, হিংসা ও বি‌দ্বেষ ভু‌লে একে অপ‌রের স‌ঙ্গে সুসম্পর্ক গ‌ড়ে তু‌লি। মান‌বিক হই। অ‌ন্যের বিপ‌দে পা‌শে দাঁড়াই। অন্তত মামুন ভাই‌য়ের ম‌তো বিনয়ী হ‌য়ে একটা হা‌সিমাখা মুখ পরবর্তী প্রজ‌ন্মের জন্য রে‌খে যাই। হয়‌তো সেটা‌কে বু‌কে ধারণ ক‌রেই চল‌বে অামা‌দের সন্তানরা।


আর মিঠু ভাইয়ের সেই প্রকৃত সহকর্মী ও বন্ধুত্বের ভূমিকাকে নিজে ও সকলের মাঝে ধারণ করে একটি সুন্দর বন্ধুত্বপূর্ন সমাজ গঠনে এগিয়ে আশার প্রত্যাশায়।