08 Jul 2019   12:33:25 PM   Monday   BdST

অজ্ঞানের পরও সায়মাকে ধর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : সামিয়া আফরিন সায়মাকে (৬) ধর্ষণের পর হত্যায় জড়িত সন্দেহে হারুন অর রশীদ (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শিশুটি জ্ঞান হারানোর পরও এই যুবক তাকে ধর্ষণ করতে থাকে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন। তিনি আরও জানান, হারুন একাই হত্যা করে শিশুটিকে। গতকাল রবিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানিয়েছেন।

 

ডিবির যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘হারুন অর রশীদ তার বিকৃত মানসিকতা থেকে একাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তার সঙ্গে আর কেউ সংশ্লিষ্ট ছিল না।’ হত্যাকাণ্ডটিকে মানবতাবিরোধী, বর্বর ও পাশবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আসামিকে আজই (গতকাল) আদালতে পাঠাব এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে চার্জশিট দেব। আশা করছি খুব দ্রুতই তার সাজা হবে।’

 

এর আগে গতকাল সকালে কুমিল্লার তিতাস থানার ডাবরডাঙ্গা এলাকা থেকে পুলিশ হারুনকে গ্রেপ্তার করে। সে হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ডিবির সংবাদ সম্মেলনে আবদুল বাতেন বলেন, ‘সায়মার পরিবার যে ভবনের ছয়তলায় থাকেন, ওই ভবনের

 

আটতলায় ভাড়া থাকেন পারভেজ নামে এক ব্যক্তি। তার রঙের দোকান রয়েছে। ওই দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করত তার আপন খালাতো ভাই হারুন। গত দুই মাস থেকে সে ওই বাসায় থাকত। সায়মার পরিবারের সঙ্গে পারভেজের পরিবারের সুসম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সুবাদে তারা পরস্পরের বাসায় আসা-যাওয়া করত। ঘটনার দিন সায়মা তার মাকে বলে গিয়েছিল, “আমি ১০ মিনিটের জন্য উপর থেকে আসি।” এ সময় সায়মা পারভেজের বাসায় যায়। সেখানে দেখে পারভেজের স্ত্রী ঘুমাচ্ছেন। সে ফিরে আসার সময় ঘাতক হারুন অর রশীদ তাকে ছাদ দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে নির্মাণাধীন খালি ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। সেখানে সে মুখ চেপে তাকে ধর্ষণ করে। শিশু সায়মার লাশ রান্নাঘরে সিংকের নিচে রেখে ফ্ল্যাটের দরজা বন্ধ করে চলে যায়। সে চলে যাওয়ার সময় কাউকে কিছু বলে যায়নি।’

 

অন্য কেউ জড়িত কি না জানতে চাইলে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত নেই। সে একাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ঘটনার পারিপার্শ্বিক বর্ণনা থেকেও তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। হারুন নিজেও একাই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। ৯ তলায় যখন ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে, তখন পারভেজের স্ত্রী বাসাতেই ঘুমাচ্ছিলেন। আর সায়মার মা ছিলেন নিজের ঘরে। তার (সায়মা) বাবা ছিলেন মসজিদে। ঘাতক হারুন আগে থেকেই সায়মাকে চিনত। ওই বাসায় তার সমবয়সী আরও একটি বাচ্চা ছিল। তার সঙ্গে সায়মা খেলাধুলা করার জন্য যায়। ওই কারণে পারভেজের বাসায় হারুনের সঙ্গে সায়মার দেখা হয়েছে। টুকটাক কথাও হয়েছে। কিন্তু আগে সে কখনো এ ধরনের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।’

 

ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাটি ফেনোমেনা (প্রপঞ্চ) উল্লেখ করে ডিবির যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘ধর্ষণ করার সময় (ধর্ষণকারীর মধ্যে) এক ধরনের বিকৃতি কাজ করে। পরে যখন সে বুঝতে পারে যে, বিষয়টি জানাজানি হলে সে হয়তো বাঁচতে পারবে না, সামাজিকভাবে এবং আইনগতভাবে তাকে বিরাট চ্যালেঞ্জ ও আইনের মুখোমুখি হতে হবে, তখন ধর্ষণকারী ব্যক্তি ভিকটিমকে হত্যা করে। এটা ধর্ষণকারীর একটা কমন ক্যারেক্টার। ধর্ষণকারী ধর্ষণ শেষে যাকে ধর্ষণ করেছে, তাকে হত্যা করে বাঁচার চেষ্টা করে।’

 

গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে সায়মার খোঁজ পাচ্ছিল না তার পরিবার। আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নির্মাণাধীন ওই ভবনটির নবম তলার ফাঁকা ফ্ল্যাটে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায় পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর চিকিৎসক জানান, তাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে। শিশুটির শরীরে ক্ষতচিহ্ন ও ঠোঁটে কামড়ের দাগ পাওয়া গেছে। সায়মার বাবা আব্দুস সালাম নবাবপুর রোডের হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ওয়ারী থানায় হত্যা মামলা করেছেন।