18 Jun 2017   09:57:13 AM   Sunday   BdST

`যেভাবে পাশে আছো সেভাবেই থেকো চিরদিন বাবা’

সাধারণত ‘বাবা’কে নিয়ে আমাদের সংস্কৃতিতে খুব বেশি আদি ব্যখ্যা নেই। বাবা মানে দূরের মানুষ। সংসারের রাশভারী, নামজাদা মেহমান। তাঁকে পাতলা পর্দার মতো ঘিরে থাকে ভয়, রাগ, শাসন আর গাম্ভীর্য।

 

আবার কীভাবে যেন তাঁর মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায় এক আকাশ নির্ভরতা আর একরাশ নিরাপত্তার অনুভূতি। তিনি ভালোবাসেন ঠিকই, স্নেহও করেন, কিন্তু সবই যেন সীমিত মাত্রায়।

 

বাবার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্কে মিশে থাকে খানিকটা দূরত্ব, খানিকটা সংকোচ, খানিকটা ভীতি মেশানো শ্রদ্ধা।

তবে আমার কাছে বাবা একটু ভিন্ন।

 


আমার ভরসা ও ছায়ার নাম ‘বাবা’ । আমার কাছে বাবা মানে নির্ভরতার আকাশ, আর একরাশ নিরাপত্তা।

 

সন্তানের ভালোর জন্য জীবনের প্রায় সবকিছুই নির্দ্বিধায় ত্যাগ করেন তিনি। আমার আদর-শাসন আর বিশ্বস্ততার জায়গা হলো বাবা। আর বাবার তুলনা বাবা নিজেই।

 

বাবা দিবস নিয়ে আলাদা করে কিছু ভাবতে পারছি না। সন্তান জন্মের পর যেমন প্রথমেই মায়ের বুকের উষ্ণতা স্পর্শ পায়, তেমনি বাবাও মাথার উপর ছায়া হয়ে থাকে। কবে প্রথম কে বাবার আঙ্গুলটা ধরেছিলো তা হয়ত কেউ বলতে পারবে না কিন্তু বাবার সেই আঙ্গুলটা ছেলেমেয়েরা ধরেই থাকে অথবা ধরে থাকাটা ধরে থাকার স্মৃতিটা টের পায়।

 

মা যেমন পরম মমতায় সন্তানকে কাছে টানে, জড়িয়ে থাকে---- একটা সময় পর বাবারা সেটা সহজে আর করে না। মাঝে মাঝে আমার মনে হয় বাবার মধ্যে সেই দূরে থাকাটা বরং কষ্টের হয়।

 

বাবারও ইচ্ছে করে সেই ছোটবেলার মত তার সন্তান তাঁকে জড়িয়ে ধরুক, কাঁধে মাথাটা রাখুক। এসব ভাবতে গিয়ে বাবারও বোধ হয় চোখটা ভিজে উঠে। তবু বড় হয়ে গেলে বাবার সাথে একটা শারীরীক দূরত্ব যেনো নিয়ম করেই মনে চলি।

 

আমার বাবাকে দেখেই বুঝতে পারি এটা বাবারা মন থেকে খুব চায় না। বুকে আগলে রাখতে চায়। মা যেমন শত মানুষের মাঝেও চুমু দেয়, আদর দেয়, বাবার চোখ বলে বাবাও তাই চায়। কিন্তু ইচ্ছে থাকলেও সেই মূহুর্তে পারে না।

 

আমরা সন্তানরা যতই বড় হচ্ছি নিজেদের ওপর খুব স্পেশাল একটা মানুষের ভালবাসার প্রখর দৃষ্টি কখনই অনুভব করতে পারি না ।

 

“পৃথিবীতে অসংখ্য খারাপ মানুষ আছে, কিন্তু একজনও খারাপ বাবা নেই।”

 

হয়ত আমিই খারাপ , এই দুনিয়ার প্রত্যেকটা মানুষ খারাপ শুধুমাত্র বাবারাই ভালো । মাঝে মাঝে নিজের ভবিষ্যাৎটাকে খুব বেশী অনিশ্চিত মনে হয় ।

 

কিন্তু শুধুমাত্র যদি বলি ভালো লাগে না, তাহলেই অস্থির হয় বাবা--- কি হলো, কেউ কিছু বললো, কেনো ভালো লাগে না? বাবাকে নিয়ে লিখলে লিখা শেষ হবে না। কিছুই লেখা হবে না।

 

প্রতিটা দিন, মূহুর্ত বাবা-মাকে ঘিরে। অস্তিত্ব, নিশ্বাস জুড়েই বাবা-মা। তাঁদের ভালোবাসতে আমার কোন দিবস লাগে না। বাবা-মা তো আমার ই। বাবা-মা এর পরম মমতায় আমি তো মমতা ছড়িয়ে তাঁদের মাঝেই থাকি। বাবার ছায়াটা না থাকলে আমি কি আমি হতাম? আমার মতো হতাম?

 


সন্তানের জন্য বাবা নি:স্বার্থভাবে সবকিছু করলেও বৃদ্ধ বয়সে এসে কোনো কোনো সন্তানের কাছে বাবারা ‘বোঝা’ হয়ে পড়েন। তাদের ঠিকানা হয় তখন বৃদ্ধাশ্রম। বৃদ্ধ বয়সে যখন সন্তানের ভালোবাসা-পরিচর্যা পাওয়ার কথা, সে সময় বৃদ্ধাশ্রমে মৃত্যুর জন্য কঠিন অপেক্ষা করতে করতেই তাদের দিন পার হয়। তবুও বাবারা সন্তানদের অভিশাপ দেন না। মৃত্যুর দিন পর্যন্ত সন্তানের সুখই কামনা করেন।

 

বাবারা থাকুক ছায়া হয়ে, একাকী রোদে যেনো আমি পুড়ে না যাই। সব বাবাদের জন্য বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা। প্রত্যেক বাবা তাঁর প্রিয় সন্তানের মমতায় মমতা ছড়িয়ে থাকুক আজীবন।

 

লেখক: সাংবাদিক তানভীর হাসান তানু, ঠাকুরগাঁও।